আপনি কি তুরস্ক ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? কিন্তু জানেন না তুর্কি ভিসা ফি কত কিংবা কোথায় আবেদন করবেন? আপনার জন্য জরুরি খবর হলো, ঢাকায় তুরস্কের ভিসা আবেদনের নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। গুলশানের পরিবর্তে এখন থেকে বনানীর নতুন ‘মোসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’-এ ভিসার সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে বনানীতে অবস্থিত এই নতুন সেন্টারে ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলুন জেনে নিই ভিসার ধরণ অনুযায়ী নতুন ফি, অফিসের ঠিকানা এবং আনুষঙ্গিক খরচের বিস্তারিত।
ঢাকায় তুরস্কের নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র (Mosaic Visa Application Center)
তুরস্কের দূতাবাস জানিয়েছে, এখন থেকে তাদের ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে ‘মোসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’। যারা তুরস্ক যেতে ইচ্ছুক, তাদের এখন থেকে নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে হবে:
নতুন অফিসের ঠিকানা: বাড়ি-৭৭, রোড-১১, ব্লক-এম, বনানী, ঢাকা।
কার্যক্রম শুরু: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সোমবার) থেকে।
তুর্কি ভিসা ফি কত? (২০২৬ সালের নতুন ফি)
ভিসার মেয়াদ এবং এন্ট্রির ধরণের ওপর ভিত্তি করে তুরস্কের ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচে সিঙ্গেল এন্ট্রি, মাল্টিপল এন্ট্রি এবং ট্রানজিট ভিসার সরকারি ফি-এর তালিকা তুলে ধরা হলো:
| ভিসার ধরণ | মেয়াদ | ভিসা ফি (টাকা) |
| সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা | ৩ মাস | ২৪,৭৫০ টাকা |
| সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা | ৬ মাস | ২৭,৬২৫ টাকা |
| সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা | ১২ মাস | ৩০,৫০০ টাকা |
| মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা | ৩ মাস | ৪১,০০০ টাকা |
| মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা | ৬ মাস | ৪৩,৮৭৫ টাকা |
| মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা | ১২ মাস | ৪৬,৭৫০ টাকা |
| ডাবল ট্রানজিট ভিসা | ৩ মাস | ৩২,২৫০ টাকা |
অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য খরচ
মূল ভিসা ফি ছাড়াও আবেদন কেন্দ্রে বিভিন্ন পরিষেবার জন্য বাড়তি কিছু চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন করার সময় এই খরচগুলো আপনার জানা থাকা প্রয়োজন:
প্রিমিয়াম লাউঞ্জ সুবিধা: ৮,০০০ টাকা
ফ্লাইট রিজার্ভেশন ফি: ২৫০ টাকা
হোটেল রিজার্ভেশন ফি: ২৫০ টাকা
বায়োমেট্রিক ফটো: ২০০ টাকা
এসএমএস (SMS) অ্যালার্ট: ৪০ টাকা
ফটোকপি ও প্রিন্টআউট: ১০ টাকা (প্রতি কপি)
অফিস সময়সূচী ও নিয়মাবলী
বনানীর এই নতুন ভিসা সেন্টারে সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে। শুক্র ও শনি সাপ্তাহিক ছুটি।
আবেদন জমা দেওয়ার সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
পাসপোর্ট সংগ্রহের সময়: দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
তুরস্কের পর্যটক ভিসার জন্য সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হয়:
- পাসপোর্ট: মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে এবং কমপক্ষে দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
- ভিসা আবেদন ফর্ম: অনলাইনে পূরণ করা এবং প্রিন্ট করা স্বাক্ষরসহ ফর্ম।
- ছবি: সম্প্রতি তোলা ২ কপি বায়োমেট্রিক ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ৩৫x৪৫ মিমি)।
- এনআইডি কার্ড: জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট: গত ৬ মাসের ব্যক্তিগত ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সচ্ছলতার প্রমাণপত্র (Bank Solvency Certificate)।
- পেশাগত প্রমাণ: * চাকরিজীবীদের জন্য: এনওসি (NOC) লেটার, স্যালারি স্লিপ এবং ভিজিটিং কার্ড। * ব্যবসায়ীদের জন্য: ট্রেড লাইসেন্স, ভিজিটিং কার্ড এবং কোম্পানির লেটারহেডে কভার লেটার।
- ভ্রমণ পরিকল্পনা: যাওয়া-আসার ফ্লাইট বুকিং এবং হোটেল বুকিং-এর কপি।
- ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স: ভ্রমণের পুরো সময়ের জন্য প্রযোজ্য ট্রাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স।
আবেদন প্রক্রিয়া
অনলাইন আবেদন: প্রথমে তুরস্কের অফিসিয়াল ভিসা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ: ফর্ম পূরণের পর বনানী ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
ফি প্রদান: ভিসা ফি এবং সার্ভিস চার্জ সাধারণত আবেদন কেন্দ্রে নগদে বা কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করতে হয়।
ডকুমেন্ট জমা ও বায়োমেট্রিক: নির্ধারিত দিনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী কেন্দ্রে গিয়ে সকল ডকুমেন্ট জমা দিন এবং বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও ছবি) সম্পন্ন করুন।
পাসপোর্ট সংগ্রহ: ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আপনাকে এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
⚠️ সতর্কতা: ভিসা আবেদনের আগে অবশ্যই অ্যাপয়েন্টমেন্ট (Appointment) গ্রহণ করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।
আশা করি, তুর্কি ভিসা ফি কত এবং নতুন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনারা পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। তুরস্ক ভ্রমণের জন্য আপনার কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে বনানীর নতুন অফিসে আবেদন সম্পন্ন করুন।
