সম্প্রতি সরকারি পলিটেকনিক কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-২০২৭ প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বাের্ড আওতাধীন সকল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর জন্য ডিপ্লোমা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-২০২৭ প্রকাশিত হয়েছে। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ থেকে একটি পছন্দ করে আপনার ইঞ্জিনিয়ারিং পথচলা শুরু করে দিন।
পলিটেকনিক ভর্তি ২০২৬ এর আবেদন www.btebadmission.gov.bd এর মাধ্যমে করা যাবে। নিচে Government Polytechnic Institute Admission 2026-2027 এর ইমেজ/পিডিএফ বিজ্ঞপ্তি, পলিটেকনিক কলেজ ভর্তিযোগ্যতা, আবেদন পক্রিয়াসহ সরকারি পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
Government Polytechnic Institute Admission 2026-2027
পলিটেকনিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তে এবার ভর্তি যোগ্যতাতে পয়েন্ট কমানো হয়েছে। এছাড়া আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি পেমেন্ট করার জন্য অনেক মেথড যোগ করা হয়েছে।
সরকারি পলিটেকনিক কলেজ ভর্তির সর্বশেষ আপডেটঃ ১০ আগস্ট এসএসসি সমমানের ফলাফল প্রকাশ হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের পলিটেকনিক কলেজ ভর্তি হতে চাই। যার ফলে অনেকেই পলিটেকনিক ভর্তির নিয়ম, ভর্তি যোগ্যতা, ভর্তি জানতে চাই। আগস্টের মাঝামাঝি সরকারি পলিটেকনিক কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-২৪ প্রকাশ হতে পারে। আবেদন চলবে প্রায় ০১ মাস পর্যন্ত।
পলিটেকনিক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-২০২৭
| কোন বোর্ডের অধীনে | কারিগরি শিক্ষা বোর্ড |
| প্রতিষ্ঠান | কলেজ ও ইন্সটিটিউট |
| প্রতিষ্ঠানের ধরন | সরকারি ও বেসরকারি |
| শিক্ষাবর্ষ | ২০২৬-২০২৭ |
| কোর্সের নাম | ডিপ্লোমা |
| কোর্সের মেয়াদ | ০৪ বছর |
| শিক্ষার্থী | ছাত্র ও ছাত্রী |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | এসএসসি বা সমমান পাস (দাখিল,ভোকেশনাল,উন্মুক্ত ) |
| ছাত্রদের পয়েন্ট | ৩.০০ জিপিএ |
| ছাত্রীদের পয়েন্ট | ২.৫০ জিপিএ |
| ভর্তির আবেদন শুরু | ২৯ আগস্ট ২০২৬ |
| ভর্তির আবেদন শেষ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| আবেদনের মাধ্যম | অনলাইনে আবেদন করতে হবে। |
| আবেদন ফি | ২০০ টাকা |
| ক্লাস শুরু | ১১ অক্টোবর ২০২৬ |
সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভর্তি সার্কুলার ইমেজ ২০২৬

সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তির যোগ্যতা ২০২৬
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রমে (২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তির প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার আলোকে শিক্ষাক্রমভিত্তিক ও শারীরিক যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য নিচে সহজ ও গোছালোভাবে তুলে ধরা হলো।
১. শিক্ষাগত যোগ্যতা (কোর্সভিত্তিক)
| শিক্ষাক্রম / টেকনোলজি | পাসের সাল | সাধারণ বোর্ড / উন্মুক্ত / ভোকেশনাল (GPA) | ‘O’ লেভেল (O-Level) যোগ্যতা | বিশেষ শর্ত |
| ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (১ম ও ২য় শিফট) | ২০২৩ থেকে ২০২৬ | ন্যূনতম GPA ৩.০০ | ১টিতে ‘C’ গ্রেড এবং গণিতসহ অন্য ২টিতে ন্যূনতম ‘D’ গ্রেড | সাধারণ বা উচ্চতর গণিতে ন্যূনতম GPA ২.০০ থাকতে হবে |
| ডিপ্লোমা ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং | ২০২৩ থেকে ২০২৬ | ন্যূনতম GPA ৩.৫০ | গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও ইংলিশসহ ৫টি বিষয়ে ন্যূনতম ‘C’ গ্রেড | শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগ বা এসএসসি (ভোকেশনাল) |
| ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার, ফরেস্ট্রি ও লাইভস্টক | ২০২৩ থেকে ২০২৬ | ন্যূনতম GPA ২.৫০ | ১টিতে ‘C’ গ্রেড এবং অন্য ২টিতে ন্যূনতম ‘D’ গ্রেড | যে কোনো বিভাগ / বোর্ড |
| ডিপ্লোমা ইন ফিশারিজ | ২০২৩ থেকে ২০২৬ | ন্যূনতম GPA ২.০০ | ১টিতে ‘C’ গ্রেড এবং অন্য ২টিতে ন্যূনতম ‘D’ গ্রেড | যে কোনো বিভাগ / বোর্ড |
২. মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য বিশেষ শারীরিক যোগ্যতা
ডিপ্লোমা ইন মেরিন এবং শিপ বিল্ডিং টেকনোলজির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নিম্নলিখিত শারীরিক মানদণ্ড পূরণ করতে হবে:
বয়সসীমা: আবেদনের তারিখে সর্বোচ্চ ১৮ বছর।
উচ্চতা:
ছাত্র: ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি
ছাত্রী: ন্যূনতম ৫ ফুট ২ ইঞ্চি
দৃষ্টিশক্তি: চশমাসহ ন্যূনতম ৬/৬ হতে হবে।
ওজন (BMI অনুযায়ী): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) BMI চার্ট অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১৭ এবং সর্বোচ্চ ২৫ হতে হবে।
৫’ ২” এর জন্য: ৪৩–৫৭ কেজি
৫’ ৪” এর জন্য: ৪৫–৬৬ কেজি
৫’ ৬” এর জন্য: ৪৮–৭১ কেজি
৫’ ৮” এর জন্য: ৫০–৭৫ কেজি
৫’ ১০” এর জন্য: ৫৪–৮০ কেজি
৬’ ০” এর জন্য: ৫৬–৮৪ কেজি
মেডিকেল সনদ: স্বীকৃত চিকিৎসক কর্তৃক মেডিকেল ফিটনেস, চক্ষু ও কালার ভিশন ফিটনেস এবং হিয়ারিং (শ্রবণশক্তি) ফিটনেস সনদ থাকতে হবে।

সরকারি পলিটেকনিক ডিপ্লোমা ভর্তি ফি
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে অনলাইন আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি নিশ্চায়ন ফি-এর বিস্তারিত তথ্য সহজ ও সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলো:
১. অনলাইন আবেদন ও পরীক্ষা ফি
অনলাইন আবেদন ফি: ২০০/- (দুইশত টাকা) (প্রতি শিফট)
ভর্তি পরীক্ষা ফি (শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানে উভয় শিফটের জন্য): ৫০০/- (পাঁচশত টাকা)
২. ভর্তি নিশ্চায়ন ফি
শিক্ষার্থীদের কোর্স ও প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী নিশ্চায়ন ফি আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়েছে:
(ক) সরকারি পলিটেকনিক ও মেরিন ইনস্টিটিউটসমূহ
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে ভর্তির আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
(খ) অন্যান্য ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠান (সরকারি পলিটেকনিক ও মেরিন ব্যতীত)
(গ) এইচ.এস.সি / সমমান পর্যায় (ভোকেশনাল, বিএমটি, ইত্যাদি)
৩. সশরীরে ভর্তির সময় আদায়যোগ্য ফি (বেসরকারি প্রতিষ্ঠান)
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সেসনচার্জসহ সশরীরে ভর্তির মোট ফি নিচে উল্লেখ করা হলো:
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা:
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান: ৫,০০০/- টাকা
বাংলা ভার্সন (আংশিক এমপিও/নন-এমপিও): ৭,০০০/- টাকা
ইংরেজি ভার্সন (আংশিক এমপিও/নন-এমপিও): ১০,০০০/- টাকা
অন্যান্য এলাকা:
মেট্রোপলিটন (ঢাকা ব্যতীত): ৩,০০০/- টাকা
জেলা পর্যায়: ২,০০০/- টাকা
মফস্বল / উপজেলা পর্যায়: ১,০০০/- টাকা
(উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ৩,০০০/- টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হবে।)

যেভাবে শিক্ষার্থী সিলেক্ট করা হবে
- ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসএসসি পাসকৃত ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রে জিপিএ ৫,০০ প্রাপ্ত সকল বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৬৮ গ্রেড পয়েন্ট ধরে প্রাপ্ত জিপিএ এর ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করতে হবে (১৪ বিষয়ের প্রতি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫ হিসেবে ১৪x৫=৭০ হওয়ার কথা। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে ২ পয়েন্ট বাদ দেয়ার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৬৮ উল্লেখ করা হয়েছে)।
- ২০১৬ সালে এসএসসি পাসকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সকল বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৫৩ গ্রেড পয়েন্ট ধরে প্রাপ্ত জিপিএ এর ভিত্তিতে মেধাক্রম। নির্ধারণ করতে হবে (১১ বিষয়ের প্রতি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫ হিসেবে ১১x৫=৫৫ হওয়ার কথা। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে ২ পয়েন্ট বাদ দেয়ার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৫৩ উল্লেখ করা হয়েছে)।
- ২০১৫ সালে এসএসসি পাসকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সকল বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৪৮ গ্রেড পয়েন্ট ধরে প্রাপ্ত জিপিএ এর ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করতে হবে (১০ বিষয়ের প্রতি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫ হিসেবে ১০x৫=৫০ হওয়ার কথা। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে ২ পয়েন্ট বাদ দেয়ার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৪৮ উল্লেখ করা হয়েছে)। এক্ষেত্রে ৬৮ পয়েন্ট ও ৫৩ পয়েন্ট কে ৪৮ পয়েন্টর সাথে সমতুল্য করে হিসাব করা হবে।
- সাধারন শিক্ষা বাের্ডের পয়েন্ট ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসির পয়েন্ট , মাদ্রাসা শিক্ষা বাের্ডের পয়েন্ট ও কারিগরি শিক্ষা বাের্ডের পয়েন্ট এবং ‘ও’ লেভেলের পয়েন্ট সমতুল্য করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি পলিটেকনিক কলেজ পর্যায়ভিত্তিক ভর্তির আবেদনের তারিখ সংক্রান্ত
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রমে ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পর্যায়ভিত্তিক ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নিচে টেবিল আকারে সুন্দর ও সহজভাবে দেওয়া হলো:
পর্যায়ভিত্তিক ভর্তি আবেদনের সময়সূচি
| ক্র. নং | কার্যক্রমের বিবরণ | তারিখ ও সময় |
| ১. | অনলাইনে ভর্তি আবেদন গ্রহণ | ২৯/০৮/২০২৬ (শনিবার) হতে ১৮/০৯/২০২৬ (শুক্রবার) |
| ২. | প্রবেশপত্র ডাউনলোড | ২১/০৯/২০২৬ (সোমবার) হতে ২৫/০৯/২০২৬ (শুক্রবার) |
| ৩. | ভর্তি পরীক্ষা | ২৬/০৯/২০২৬ (শনিবার), সকাল ১০:০০ – ১১:০০ ঘটিকা |
| ৪. | ১ম পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশ | ২৯/০৯/২০২৬ (মঙ্গলবার) |
| ৫. | ১ম পর্যায়ের নিশ্চায়ন | ২৯/০৯/২০২৬ (মঙ্গলবার) হতে ০১/১০/২০২৬ (বৃহস্পতিবার) |
| ৬. | ১ম পর্যায়ের মাইগ্রেশন | ০২/১০/২০২৬ (শুক্রবার) |
| ৭. | ২য় পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশ (অপেক্ষমান তালিকা হতে) | ০২/১০/২০২৬ (শুক্রবার) |
| ৮. | ২য় পর্যায়ের নিশ্চায়ন | ০২/১০/২০২৬ (শুক্রবার) হতে ০৪/১০/২০২৬ (রবিবার) |
| ৯. | ২য় পর্যায়ের মাইগ্রেশন | ০৫/১০/২০২৬ (সোমবার) |
| ১০. | পছন্দক্রম নির্বাচন / পরিবর্তন
(১ম ও ২য় পর্যায় থেকে নিশ্চায়ন না করা ও অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের জন্য) | ০৫/১০/২০২৬ (সোমবার) হতে ০৬/১০/২০২৬ (মঙ্গলবার) |
| ১১. | ৩য় পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশ | ০৭/১০/২০২৬ (বুধবার) |
| ১২. | ৩য় পর্যায়ের নিশ্চায়ন | ০৭/১০/২০২৬ (বুধবার) হতে ০৮/১০/২০২৬ (বৃহস্পতিবার) |
| ১৩. | চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
(১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে নিশ্চায়নকৃত শিক্ষার্থীদের) | ০৯/১০/২০২৬ (শুক্রবার) |
| ১৪. | সশরীরে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি | ১০/১০/২০২৬ (শনিবার) হতে ১২/১০/২০২৬ (রবিবার) |
| ১৫. | ক্লাস শুরু | ১১/১০/২০২৬ (রবিবার) |
আরো দেখুনঃ পলিটেকনিকে ভর্তি নিশ্চায়ন পদ্ধতি – ডিপ্লোমা ভর্তি নিশ্চায়ন পক্রিয়া ২০২৬-২০২৭
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-২০২৭
এস.এস.সি পরীক্ষার পর চাইলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যে কোনো ডিপ্লোমা কোর্সেও ভর্তি হয়ে বদলে দিতে পারেন আপনার ভবিষ্যত জীবন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে কোর্সটি করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা সেই কোর্সটি কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে করতে কমপক্ষে খরচ পড়ে ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা।
ডিপ্লোমা ভর্তি ২০২৬-২০২৭ সার্কুলার অনুসারে এখন আর ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ডিপ্লোমা ভর্তির জন্য সকল আবেদনকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভাল রেজাল্টকারীদের বেছে নেওয়া হয়। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ডিপ্লোমা ভর্তি সার্কুলার একই সাথে কারিগরি বোর্ড কর্তৃক প্রকাশ করা হয়।
তবে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানসমূহে নিজেদের ইচ্ছামতো শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিপ্লোমা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। তবে কিছু প্রাইভেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে যাদের খুবই উন্নতমানের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রন করা হয় এবং পরীক্ষা শেষে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক সনদপত্র প্রদান করা হয়।

পলিটেকনিক ভর্তি আবেদন পক্রিয়া
আবেদন করতে মোবাইল ব্যাংকিং এর প্রয়োজন হবে। রকেট, বিকাশ বা শিওরক্যাশ এর মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। এসব ব্যাংকিং থেকে আবেদনকারীকে ১৬০/- আবেদন ফি জমা দিতে হবে। অনলাইনের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে। পছন্দক্রম অনুসারে একজন শিক্ষার্থী ১৫ টি টেকনোলজি/ট্রেড এ আবেদন করতে পারবেন। নিচে ধারবাহিকভাবে আবেদন পক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
1.http://btebadmission.gov.bd/website ভিসিট করে নিচের মত ইন্টারফেস দেখতে পারবেন। এরপর Govt. Programs থেকে আপনার পছন্দের ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ড সিলেক্ট করুন।

2. আপনি যে বিষয়ে ভর্তি হতে চান সে বিষয়ের উপর ক্লিক করলে Apply Now বাটন দেখতে পারবেন। Apply Now Button এ ক্লিক করুন।

3. নিচের দেয়া ছবির মত আবেদনের প্রথম পেজ দেখতে পারবেন। আপনার পাবলিক পরীক্ষার রোল নম্বর দিন। এসএসসি, দাখিল, মাদ্রাসা ও উন্মুক্ত (BOU) বোর্ড হিসেবে আপনার বোর্ড সিলেক্ট করুন।রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিন ও কোন সালে পাস করেছেন সেটি সিলেক্ট করুন।
4. সচল মোবাইল নাম্বার দিন। কনাফার্ম করার জন্য আবার মোবাইল নাম্বার ইনপুট করান।

5.Pull Your Payment এ ক্লিক করুন। অন্য একটি ট্যাব ওপেন হবে। Payment Pull লেখা থাকবে।
6.Payment Pull থেকে Organization থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সিলেক্ট করুন। আপনার সুবিধামত পেমেন্ট মেথড সিলেক্ট করার পর Transaction ID বসিয়ে দিয়ে সাবমিটে ক্লিক করুন। (নিচে রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট মেথড দেয়া আছে)
রকেটের মাধ্যমে আবেদন ফি প্রদানঃ
- প্রথমে *৩২২# ডায়াল করে Bill Pay নির্বাচন করুন ।
- আপনার একাউন্ট হলে Self এবং অন্যের একাউন্ট হলে Others সিলেক্ট করে মোবাইল নাম্বার দিন।
- Biller ID এর জন্য Others নির্বাচন করুন।
- Biller ID – 220 ইনপুট দিন।
- Bill No এ <কোড><পাসের সাল><বোর্ড কোড> এন্ট্রি দিন (স্পেস দেওয়ার প্রয়োজন নেই)
- SSC এর Roll Number দিন।
- Amount এ 150 টাকা লিখুন।
- আপনার রকেট একাউন্টের Pin Number প্রদান করুন।
- Payment সম্পন্ন হলে Successful SMS প্রদর্শিত হবে। SMS এ প্রদর্শিত Transaction ID হিসেবে সংরক্ষণ করুন।
- রকেট ছাড়াও আপনি বিকাশ ও শিউর ক্যাশে টাকা প্রদান করতে পারবেন।
সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তি হতে কত পয়েন্ট লাগবে?
সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেঃ
- যারা এসএসসিতে,দাখিলে বিজ্ঞান বিভাগে পড়েছেন অথবা এসএসসি ভোকেশনাল পড়েছেন তারা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচ্য হবেন।
- ছাত্রদের ক্ষেত্রে এসএসসিতে পয়েন্ট ৩.০০ পেতে হবে। গনিত বা উচ্চতর গনিতে ৩.০ পেতে হবে।
- ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এসএসসিতে পয়েন্ট ২.৫০ পেতে হবে। গনিত বা উচ্চতর গনিতে ২.০ পেতে হবে।
নন সাইন্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেঃ
- বিজ্ঞান ব্যাতীত অন্য শিক্ষার্থীরা নন সাইন্স শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচ্য হবেন।
- এক্ষেত্রে আপনাকে ৬ সপ্তাহব্যাপী বৃদ্ধিমূলক কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
- ছাত্রদের ক্ষেত্রে এসএসসিতে পয়েন্ট ৩.০০ পেতে হবে।
- ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এসএসসিতে পয়েন্ট ২.৫ পেতে হবে।
সরকারি পলিটেকনিক কলেজের তালিকা




সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোটা
কোটার হার ও শর্তাবলি
মুক্তিযোদ্ধা কোটা: মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫% কোটা সংরক্ষিত থাকবে।
প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ কোটা: শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ১% কোটা সংরক্ষিত থাকবে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রার্থীদের জন্য ১% কোটা সংরক্ষিত থাকবে।
মহিলা প্রার্থী অগ্রাধিকার: মহিলা শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে নিজ জেলা ও নিজ বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শূন্য আসন পূরণ: কোটার অন্তর্ভুক্ত কোনো আসন শূন্য থাকলে তা সাধারণ মেধা তালিকা হতে পূরণ করা হবে।
কোটার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র/সনদপত্র
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে প্রদত্ত সনদপত্র দাখিল করতে হবে।
প্রতিবন্ধী প্রার্থী : উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর হতে প্রদত্ত প্রতিবন্ধী সনদ/পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রার্থী: সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক/ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র জমা দিতে হবে।
তৃতীয় লিঙ্গ প্রার্থী: সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র/সনদপত্র জমা দিতে হবে।
সরকারি পলিটেকনিকে পড়ার খরচ
সরকারি পলিটেকনিকে ৪ বছরে আপনার পড়াশোনার খরচ পড়বে মাত্র কম বেশি ৫০ হাজার টাকা। সরকারি পলিটেকনিকে ৪ বছরে (৮ সেমিস্টারে) আনুমানিক মোট খরচের সংক্ষিপ্ত হিসাব:
| খরচের খাত | আনুমানিক খরচ (৪ বছর / ৮ সেমিস্টার) |
| ১. প্রতিষ্ঠান ফি (ভর্তি, ফরম ফিলাপ ও টিউশন) | ১৫,০০০ – ১৮,০০০ টাকা |
| ২. বই-পুস্তক ও প্র্যাকটিক্যাল খাতা | ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা |
| ৩. হোস্টেল ও থাকা-খাওয়া | ১,২০,০০০ – ১,৮০,০০০ টাকা (মেস বা হোস্টেলভেদে) |
| ৪. ব্যক্তিগত ও অন্যান্য খরচ | ২০,০০০ – ৩০,০০০ টাকা |
| সর্বমোট আনুমানিক খরচ | ১,৬৫,০০০ – ২,৪৩,০০০ টাকা |
সরকারি হলের খরচের হিসাব (৪ বছর / ৪৮ মাস)
| খরচের খাত | মাসিক / নির্দিষ্ট ফি | ৪ বছরে (৪৮ মাসে) আনুমানিক মোট খরচ |
| ১. হল ভর্তি/জামানত ফি | এককালীন | ১,০০০ – ২,৫০০ টাকা (একবারই দিতে হয়) |
| ২. সরকারি সিট ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ | ২০০ – ৫০০ টাকা / মাস | ৯,৬০০ – ২৪,০০০ টাকা |
| ৩. মেসে খাবার (মিল) খরচ | ২,৫০০ – ৩,৫০০ টাকা / মাস | ১,২০,০০০ – ১,৬৮,০০০ টাকা |
| সর্বমোট আনুমানিক হল খরচ | ২,৮০০ – ৪,০০০ টাকা / মাস | ১,৩১,০০০ – ১,৯৫,০০০ টাকা |
মেস (বাইরে থাকা) বনাম সরকারি হলের খরচের পার্থক্য:
বাইরে মেসে থাকলে: বাসা ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বেশি হওয়ায় ৪ বছরে থাকা-খাওয়া বাবদ ১,৫০,০০০ থেকে ২,২০,০০০+ টাকা পর্যন্ত লেগে যায়।
সরকারি হলে থাকলে: সিট ভাড়া সরকারিভাবে নির্ধারিত (একবারে নামমাত্র) হওয়ায় ৪ বছরে থাকা-খাওয়ায় প্রায় ৩০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা সাশ্রয় হয়।
এছাড়া গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধার জন্য বিশ্বব্যাংক ও কানাডার যৌথ উদ্যোগে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জনপ্রতি মাসিক ৮শ’ টাকা শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্থাপিত গাজীপুরে অবস্থিত শুধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজিতে। যার মান যে কোনো প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতুল্য।
বেসরকারি পলিটেকনিকে পড়াশোনার খরচ একটু বেশি। সেখানে প্রতিষ্ঠান ও বিষয় ভেদে খরচ পড়বে আলাদা-আলাদা। সে ক্ষেত্রে ৯০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার মতো খরচ হবে।
যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ
যে বিষয়গুলো পড়ার সুযোগ রয়েছে সরকারি এবং বেসরকারি পলিটেকনি্কে শিক্ষা শেষে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। চার বছর যে বিষয়ে পড়ানো হয় সেগুলো হলো আর্কিটেকটর এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন, আর্কিটেকচার, সিভিল, কম্পিউটার, গার্মেন্টস ডিজাইন এ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং, ইনভায়রনমেন্টাল, ইন্সট্রুমেন্টাল এ্যান্ড প্রসেস কন্ট্রোল, মেকাট্রনিক্স, মাইনিং এ্যান্ড মাইন সার্ভে, টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, ফুড, মেকানিক্যাল, পাওয়ার, রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, সিরামিক, গ্লাস, সার্ভেয়িং, মেরিন, শিপবিল্ডিং, এ্যারোস্পেস, অটোমোবাইল, কেমিক্যাল, সিভিল, ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এ্যান্ড নেটওয়ার্কিং, কম্পিউটার সাইন্স, ইলেকট্রোমেডিকেল, প্রিন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন।



আমি সাইন্স নিয়ে 4.33 পাইছি। উচ্চতর গণিত এ A + পাইসি। আমি কি আবেদন করতে পারবো।2023 সালে আর ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার গাজীপুর চান্স পাবো
পেতে পারেন।