ইসলাম ধর্মে যে কয়টি রাত অত্যন্ত মহিমান্বিত, তার মধ্যে লাইলাতুল বরাত,নিসফে শাবান বা শবে বরাত অন্যতম। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ ভাগ্য। অর্থাৎ এই রাতে আল্লাহ তায়ালা আগামী এক বছরের জন্য বান্দার রিজিক, হায়াত ও ভাগ্য নির্ধারণ করেন।
২০২৬ সালে শবে বরাত কবে এবং এই রাতের বিশেষ আমলগুলো কী কী, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই পোস্ট।
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে?
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে হিজরি মাস গণনা করা হয়। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ নিচে দেওয়া হলো:
শবে বরাতের রাত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্রগলবার দিবাগত রাত।
শবে বরাতের দিন: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধাবার। সরকারি ছুটি
শবে বরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব
পবিত্র হাদিস শরিফে এই রাতের ব্যাপক গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শাবান মাসের ১৫তম রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
ক্ষমা লাভের রাত: এই রাতে আল্লাহ তায়ালা অগণিত মানুষকে ক্ষমা করে দেন।
ভাগ্য নির্ধারণ: অনেক উলামায়ে কেরামের মতে, এই রাতে মানুষের পরবর্তী এক বছরের বাজেট বা ভাগ্য লিপি ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দোয়া কবুল: এই রাতে কৃত দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না (মুশরিক ও হিংসুক ব্যক্তি ছাড়া)।
শবে বরাতের নামাজ পড়ার নিয়ম
শবে বরাতের জন্য নির্ধারিত বিশেষ কোনো নিয়মের নামাজ নেই। তবে এই রাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে নফল নামাজ পড়া অনেক সওয়াবের কাজ।
নিয়ত: “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে বরাতের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি—আল্লাহু আকবার।”
পড়ার নিয়ম: সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে যত খুশি নামাজ পড়া যায়। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর আপনার জানা যেকোনো সুরা পড়তে পারেন।
সালাতুত তাসবিহ: এই রাতে সম্ভব হলে ‘সালাতুত তাসবিহ’ নামাজ পড়া অত্যন্ত উত্তম।
শবে বরাতের বিশেষ দোয়া ও আমল
শবে বরাতের রাতে নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা আমল না থাকলেও নিচের কাজগুলো করা সুন্নত ও মুস্তাহাব:
১. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা
এই রাতে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করুন। অন্তত ১০০ বার পড়ুন:
“আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিজ লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।”
২. দরুদ শরিফ পাঠ
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন। এতে দোয়ার বরকত বৃদ্ধি পায়।
৩. কোরআন তেলাওয়াত
সুরা ইয়াসিন, সুরা আর-রাহমান বা কোরআনের যেকোনো অংশ তেলাওয়াত করা এই রাতের অন্যতম সেরা ইবাদত।
৪. কবর জিয়ারত
রাসুলুল্লাহ (সা.) শবে বরাতের রাতে জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করেছিলেন। তাই সম্ভব হলে নিকটস্থ কবরস্থানে গিয়ে দোয়া করা যেতে পারে।
৫. শাবানের ১৫ তারিখে রোজা রাখা
শবে বরাতের পরের দিন (অর্থাৎ ১৫ই শাবান) নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি হবে ৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার।
শবে বরাত হলো ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির রাত। এই রাতে আতশবাজি বা আলোকসজ্জার মতো অনৈসলামিক কাজ বর্জন করে মহান আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত রাতের বরকত নসিব করুন। আমিন।
