বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত খুলনা বিভাগের অন্তর্গত সাতক্ষীরা জেলা। জেলার এক-তৃতীয়াংশ অংশ সুন্দরবন দখল করে আছে সাতক্ষীরা। প্রাচীনতম জেলাটির সাতঘরিয়া সাতক্ষীরা নাম করন করা হয়। জেলার সকল উওপজেলা থানাতে ভ্রমনের জন্য বেশ কিছু স্পট রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান সমুহ নিয়ে আজকের Top & Hidden Tourist places in Satkhira পোস্টটা সাজানো হয়েছে। সাথে সাথে কিছু হিডেন ছোট ছোট স্পটকে তুলে এনেছি আপানদের সামনে। যশোর জেলার দর্শনীয় স্থান সমুহ ও লুকায়িত স্পট সম্পর্কেও জানতে পারেন।
সাতক্ষীরা জেলার দর্শনীয় স্থান সমুহ
১.মন্টু মিয়ার বাগান বাড়ি সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার মন্টু মিয়ার বাগান বাড়ির খাতকলমে নাম মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট। ১২০বিঘা জমির উপর মন্টু মিয়ার বাগান বাড়ি বিস্তৃত। গেস্ট হাউজ, রেস্টুরেন্ট, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট, নৌকা ভ্রমন, শিশু পার্ক, সুইমিং পুল, বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল গাছপালা রয়েছে। ভ্রমন পিপাসুদের প্রথম পছন্দ হতে পারে মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্টটি।
সাতক্ষীরা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে মন্টু মিয়ার বাগান বাড়ি যেতে পারবেন। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ফি নিয়ে প্রবেশ করতে হয় রিসোর্টটিতে।
২. তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, তালা, সাতক্ষীরা
যাতায়াত: সাতক্ষীরা শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে করে তালা উপজেলায় যেতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় ভ্যান বা ইজিবাইকে চড়ে সরাসরি মসজিদে পৌঁছানো যায়।
কেন বিখ্যাত: এটি মোঘল স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এর দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য এবং বিশাল গম্বুজ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ নিতে এখানে অনেকেই ভিড় করেন।
৩. প্রবাজপুর মসজিদ, মুকুন্দপুর, সাতক্ষীরা
যাতায়াত: সাতক্ষীরা শহর থেকে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামে যেতে হবে। শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার।
কেন বিখ্যাত: এই মসজিদটি মুঘল সম্রাট সুজাউদ্দৌলার শাসনামলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। এর দেয়ালের টেরাকোটা নকশা এবং প্রাচীন নির্মাণশৈলী একে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে
৪. কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক
যাতায়াত: প্রথমে সাতক্ষীরা শহর থেকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বা নীলডুমুর ঘাটে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে নদীপথে সুন্দরবনের ভেতরে এই পার্কে যেতে হয়।
কেন বিখ্যাত: এটি সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখানকার কাঠের ট্রেইল (Walkway) দিয়ে বনের ভেতরে হাঁটা যায়। পর্যটকরা এখানে খুব কাছ থেকে হরিণ, বানর এবং সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন উপভোগ করতে পারেন।
৫.মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত
যাতায়াত: এটি অত্যন্ত দুর্গম এবং রোমাঞ্চকর একটি জায়গা। নীলডুমুর ঘাট থেকে বড় ট্রলার বা লঞ্চ ভাড়া করে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টার নদী পথ পাড়ি দিয়ে সুন্দরবনের গভীর এলাকা অতিক্রম করে এই সৈকতে পৌঁছাতে হয়।
কেন বিখ্যাত: এটি সুন্দরবনের গহীনে অবস্থিত এক নির্জন বালুকাময় সৈকত। একদিকে ঘন ম্যানগ্রোভ বন আর অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি—এমন দৃশ্য আর কোথাও দেখা যায় না। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য এটি স্বপ্নের মতো একটি জায়গা।
সাতক্ষীরা জেলার প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান
- দোবেকী
- নোটাবেকী
- পুপকাটি
- বঙ্গবন্ধুর চর
- পুটনির দ্বীপ
- বিবিরমেদে
- করমজল
- হাড়বাড়িয়া
- কছিখালি
- কটকা
- জামতলা
- হিরণ পয়েন্ট
- দুবলার চর
- হরিনগর
- কইখালি
- মুন্সিগঞ্জ
সাতক্ষীরা জেলার পার্ক
- কপোতাক্ষ নীলিমা ইকোপার্ক,তালা, সাতক্ষীরা
- খোলা জানালা ইকো পার্ক,তালা, সাতক্ষীরা
- আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার’
- ডিসি ইকোপার্ক সাতক্ষীরা
- লিমপিড বোটানিক্যার গার্ডেন
- সাত্তার মোড়লের স্বপ্ন বাড়ি
সাতক্ষীরা জেলার ঐতিহাসিক স্থানসমূহ ও পুরাকীর্তি
- তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ
- ঈশ্বরীপুর হাম্মাম খানা
- বংশীপুর শাহী মসজিদ
- সুলতানপুর শাহী মসজিদ
- বারো দুয়ারী প্রাসাদ
- জাহাজঘাটা নৌ দুর্গ
- হরিচরণ রায় চৌধুরীর বিখ্যাত জমিদার বাড়ি
- সাতক্ষীরার দর্শনীয় নলতা শরীফ
- গুনাকরকাটি মাজার
- ঐতিহাসিক গোপালপুর স্মৃতিসৌধ
- সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দির
- শ্যামসুন্দর মন্দির
- যশোরেশ্বরী কালী মন্দির
- জোড়া শিবমন্দির
- ঐতিহাসিক গির্জা
